শেষ ব্লগ গুলি

বেকারত্ব নিরসনে আমাদের করণীয় কি?

বেকারত্ব নিরসনে আমাদের করণীয় কি?
বেকারত্ব নিরসনে আমাদের করণীয় কি
বেকারত্ব নিরসনে আমাদের করণীয় জানতে হলে সুরুতে আপনাকে জানতে হবে সামাজিক অবক্ষয় কাকে বলে এবং সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ ?

সমাজ বলতে আমরা কি বুঝি।

সমাজ বলতে আমরা সাধারণত বুঝি,নির্ধারিত এরিয়ার ভিতরে কতগুলো বসতি স্থাপন করে মানুষজন একত্রে মিলেমিশে বেঁচে থাকার জন্য পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে জীবন যাপন করা।

এবং আজকে আমরা জানব, সামাজিকভাবে কি কি ধরনের অবক্ষয় প্রতিয়মান হচ্ছে? কিভাবে এর প্রতিরোধ করা সহজেই সম্ভব? তাহলে জেনে নিই সমাজ সম্পর্কে কিছু কথা।

চাকরির আবেদন করার সময় ইমেইলে CV পাঠানোর ৭টি নিয়ম জেনে নিন|

সমাজ নিয়ে কিছু কথা।

পারিবারিক এই মিল বন্ধনের জন্য কতগুলো নিয়ম-কানুন প্রচলন করে জীবন যাপনের পথ সহজ করা হয় অপরদিকে সামাজিক সামাজিক কাঠামো কে সক্রিয় করনের জন্য প্রয়োজন সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সামাজিকীকরণ এমন একটি প্রক্রিয়ার নাম,যা একজন মানব শিশুকে ক্রমান্বয়ে ব্যক্তিত্বসম্পন্ন সামাজিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলে। সামাজিকীকরণ ছাড়া সমাজে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা একেবারেই অসম্ভব। এই সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া সুস্থভাবে সম্পন্ন বা কার্য্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে চলমান রাখতে নারাজ কতগুলো স্বার্থান্বেষী নিজেদের পাওয়ার জারি রাখা ও স্বার্থসাধন করার লক্ষ্যে সমাজকে ঢেলে দেয় নিকৃষ্টতার অতল গহবরে যে অবস্থাটিকে সমাজ বিজ্ঞানীগণ সামাজিক অবক্ষয় বলে আখ্যায়িত করেছেন।

কেনো সমাজ অবক্ষয় ধীরে ধীরে বিষবাষ্পে পরিণত হচ্ছে।

বন্ধুরা!এবার তাহলে জেনে নিই কি কারণে সমাজ অবক্ষয় ধীরে ধীরে বিষবাষ্পে পরিণত হচ্ছে, প্রথমত নিঃসন্দেহে বলা যায়, দারিদ্র্যের কারণে সামাজিক অবক্ষয় বেড়ে চলেছে। কেউ বিপরীত যুক্তি দেখালেও এটাই বাস্তব সত্য কেননা,আমরা যদি সমাজের বাস্তব চিত্রের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাবো কিভাবে ক্ষুধাপীড়িত মানুষগুলো ক্ষুধা নিবারনের জন্য একাধিক অ-সামাজিক কার্য্যকলাপে লিপ্ত হচ্ছে। একজন ক্ষুধার্ত মানুষের আর্তনাদ নিবারণ করার জন্যই সমাজপতিদের উপর সাধারণ মানুষ আস্থা রেখে যায়। কিন্তু এ আস্থা যখন সমাজপতিদের স্বার্থ উদ্ধারে পরিণত হয় তখন ক্ষুধিত মানুষ কোনটা সামাজিক আর কোনটা অ-সামাজিক কাজ তা বুঝার সুযোগ হয়ে উঠেনা। বেঁচে থাকার জন্য এসব মানুষ সব রকম কর্মে লিপ্ত হতে সদা অভ্যস্ত। সমাজপতিরা যখন রক্ষক না হয়ে ভক্ষক হয় তখনতো নিপীড়িত মানবেরা চুরি,ঢাকাতি,খুন সহ নানাবিধ অপকর্মে জড়িয়ে যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ একটাই, পেটের ক্ষুধা মিটিয়ে সমাজে বেচে থাকা।

কোন একসময় তারা বড় ধরনের দু-র্ধর্ষ হয়ে উঠে। তাদের এহেন কর্মকান্ডের জন্য আপনি একজন সচেতন নাগরিকের মুখোশে ঠিকই তাদেরকে সমাজের শ্রেষ্ঠ ক্রিমিনাল উপাধি দিয়ে থাকবেন। অথচ তার এ পথে পাড়ি জমানোর জন্য সে ইচ্ছাকৃত দ্বায়ী নয়। ইচ্ছা আর অনিচ্ছার কথা আসলে সহসাই আমরা দোষ দিই সেসকল মানুষ জ্ঞানহীন, তারা বুঝেনা কোনটা ঠিক আর কোনটা অ-সামাজিক। এর জন্য স্পষ্ট দায় ভার বহন করতে হবে সমাজপতিদের। তাদেরকে শুধু চেয়ার নিয়ে বসে দিন কাটানোর জন্য সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ আসনে বসায়নি। বসিয়েছে ক্ষুধিত মানুষের আর্তনাদ ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য।

কিন্তু তারা তার পরিবর্তে নিজেদের বাড়ি গাড়ি করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়। যার করুণ ফল ভোগ করে দারিদ্রপীড়িত মানুষগুলো। যার পরনাই সমাজে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। যা সমাজের কোমর ভেঙ্গে অবক্ষয়ের করুন পরিণতি বয়ে আনে। যে প্রভাবকে আমরা সহসাই সামাজিক ব্যবস্থার ত্রুটি হিসেবে সাব্যস্ত করে থাকি সামাজিক অবক্ষয়ের আরেকটি কারণ হচ্ছে বেকারত্ব সমাজের প্রতিটি রন্দ্রে রন্দ্রে আজ বেকারত্বের অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছে পরিবারের সকল সদস্যরা। কর্মক্ষেত্র হিউজ পরিমান থাকলেও চাকরির সন্ধান নেই। তার কারণ হিসেবে বলা যায়, আমরা প্রতিনিয়ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে কিন্তু সেখানে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় ঐ পোষ্ট গুলোতে অলরেডি কেউ না কেউ কর্মরত রয়েছেন জাস্ট ফর্মালিটিস জন্য হয়।

দুঃখজনক হলেও সত্য এ ধরনের বৈষম্য নীতির কারণে হার দিন দিন বেড়েই চলছে বলতে পারেন এখানে সত্যি খুবই সহজ, প্রতিবছর অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থীরা পাশ করে বের হচ্ছে মিলছে না তাদের চাকরি। সবারই চোখে পড়ার কথা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এগুলোতে চাওয়া হয় দুই বছর তিন বছর 57 কিংবা 10 বছরের অভিজ্ঞতা। আপনি যদি সহজে বিষয়টাকে না নেন তাহলে আপনার কাছে প্রশ্ন রইল একজন মানুষ সদ্য পাস কৃত ঐ পদের জন্য আবেদন করলে সবকিছুতে সে সম্পূর্ণভাবেই কৃতকার্য হল কিন্তু তার অভিজ্ঞতা না থাকার দরুন তাকে নিয়োগ প্রদান করা হলো না। আপনার কাছে আমার প্রশ্ন এটাই জানতে ইচ্ছে করছে ঐ মানুষটি মায়ের পেট থেকে শিখে আসবে? নাকি তার শিক্ষাজীবন চলাকালীনই কিছু করতে পারে। পদ্ধতিগত একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি এদেরকে এক বছর দুই বছর কিংবা তিন বছর মেয়াদী কোর্স সম্পন্ন করে দেওয়া হয় ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে? তাহলে বলতে পারেন সেখানেও তো বাস্তবসম্মত অনেক কিছু শিখানো হয়। কিন্তু সেখানে আলাদা কোন সার্টিফিকেট এর ব্যবস্থা থাকে না।তাই এ ধরনের অভিজ্ঞতাকে যুক্তি হিসেবে ধরে নিতে পারেন না।

শুধুমাত্র অভিজ্ঞতার ধোঁয়া তুলে তুলে পড়ে থাকা হাজার হাজার পোস্ট এখনও খালি রয়েছে। যেগুলোতে আমাদের এই হাজার হাজার তরুণ যুবক বেকার যারা রয়েছেন তাদেরকে নিয়োগ দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ ছিল। আমরা যদি এ বার হাজার হাজার জনগোষ্ঠীকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারতাম তাহলে ঐ জায়গাগুলোতে আরও সুন্দরভাবে কার্য সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও বেশি সুদৃঢ় হতে পারতো। আরেকদিকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে পরিবার সমাজ অনেকাংশে মুক্তি পেতে পারতো।

আমরা শুধুমাত্র খালি থাকা সে সকল পোষ্টের জন্য দায়ী করছি বেকারত্বের মূল কারণ হিসেবে। কিন্তু না, আমরা যদি একটু চোখ বুলিয়ে দেখি বেকারত্ব থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য প্রতিটি বেকার জনগোষ্ঠীকে একটু চিন্তা-ভাবনা করে পরিকল্পনা মাফিক জীবন যাপন করলে অবশ্যই তারা বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

বলতে পারেন সেটা কেমন?

সেটা হচ্ছে উদ্যোক্তা হওয়া। আমাদের যারা বেকার জনগোষ্ঠী রয়েছেন তারা নাইন্টি পার্সেন্ট উদ্যোক্তা হতে ন্যূনতম পরিকল্পনা মাথায় পর্যন্ত আনেনা, উদ্যোক্তাগিরীকে তারা সবচাইতে খারাপ হিসেবে ভেবে থাকেন। এত পড়াশোনা করেছি এত এত কিছু করেছি আমি কেন নিজে নিজের কাজ করব। আমি একটা প্রতিষ্ঠানে বড় বড় চাকরি করব। কিন্তু শেষমেশ দেখা যায় বড় বড় চাকরির আশায় সরকারি বিধি মোতাবেক তার চাকরির বয়স পর্যন্ত শেষ হয়ে যায়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে যখন পাচ্ছে না কোনো সুযোগ কোথাও, তখন থেকে সে তার নিজের উদ্যোগে কিছু না কিছু একটা করে তার জীবন পরিবার সংসার চালাতে বাধ্য হয়। এই কাজটি যদি তার এডুকেশনে সে যতটুকু সম্পন্ন করেছে আর পারবেনা ঠিক সেখানে স্টপ করে সে চাকরির পিছনে না দৌড়িয়ে যদি সে নিজে উদ্যোগী হয়ে কিছু করতে পারত, তাহলে তার প্রতিষ্ঠান তার সাথে আরো 10 জন 20 জন পুরুষ/নারীর চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে পারত।তার একটি মাত্র উদ্যোগের অভাবে তার সাথে আরও 10 জনের চাকরি হচ্ছে না। এই ধরনের হীনম্মন্যতাবোধের কারনে বেকারত্ব বেড়ে চলছে।

বেকারত্বের হার বেড়ে যাওয়ার কারণে কতগুলো অসঙ্গতি সমাজে সৃষ্টি হয়।

সমাজে যখন বেকারত্বের হার বেড়ে যায় তখন আমরা কতগুলো অসঙ্গতি সমাজে লক্ষ্য করি। তার মধ্যে মাদকাসক্তির প্রভাব টা বেড়ে যায়। কেন? কারণ প্রথমত গোলকধাঁধায় পড়ে থাকে কোথাও সে চাকরি পেল না অভিজ্ঞতার অভাবে। চাকরির জন্য সে নিজের চেষ্টা করলেও হতাশ ভাবে বাড়ি ফিরে আসে যার কারণে সেই বাড়িতে বসে বসে খাচ্ছে আর ঘুমাচ্ছে। এখন তার দিনের বেলা- রাত্রিবেলা এতগুলো সময় কিভাবে পার করবে, এজন্য সে যখন সমাজের অন্য ছেলেদের সাথে ঘুরাফেরা করে অবৈধ কাজে লিপ্ত হয়ে বাজে আড্ডায় মেতে উঠে, খারাপ মেলামেশা করার চেষ্টা করে তখন আস্তে আস্তে অন্যায় কাজের প্রতি সে বাধ্য হতে থাকে।

কেন হতে থাকে, সহজ উত্তর এটাই যে কাজ ছাড়া বসে থাকবে কোন কাজ নেই তার মস্তিস্ক শয়তানের কুমন্ত্রণা দিচ্ছে। তাকে বলছে তুমি এদিকে যাও! তুমি ওদিকে যাও! তুমি এটা করো! সেটা করো! অথচ সেই চিন্তাধারার কোন একটিও সঠিক নয়। হয়তো দেখা গেছে তাকে বলা হয় যে অমুকের সাথে ঝগড়ায় বেধে জিনিস চুরি করে নিয়ে আসো। কারণ সে তো বেকার তার হাতে কোনো টাকা নেই পয়সা নেই সে তো এখন যে দিকে সে টাকা পাবে যেদিকে পয়সা পাবে সেদিকেই যাবে। আর সেই পথটা ভালো নাকি মন্দ সেটা সে বিচার করবেনা। তার মাথায় সেটা কাজ করবেনা। কাজেই অবস্থাটাকে আমরা বলি সঙ্গদোষ।

যেটাকে মনীষীরা বলে থাকেন "সঙ্গদোষে লোহা ভাসে" স্বাভাবিকভাবে সমাজে যখন একাধিকলোক বেকার হয়ে পড়ে থাকেন। তাদের কোন কাজকর্ম নেই কিছুই নেই, ঘোরাফেরা আর খাওয়া-দাওয়ার এতটুকুতেই তাদের জীবনের কাল। তখন তারা একে অপরে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা করে যত ধরনের খারাপ কাজ আছে বা সমাজের অনগ্রসর যেটা অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার একটি সুবর্ণ সুযোগ তারা পায় তখন। যেটা বলেছি শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দেয় তাদের মস্তিষ্ক খারাপের দিকে তাদেরকে ধাবিত করতে থাকে। কারণ তাদেরকে পরিবার যখন তারা ঘরে অবস্থান করে পরিবারের সদস্যরা তাকে তিরস্কার করে। এজন্য আমি পরিবারকেও দায়ী করছি। কারন পরিবার তাদের এই অবস্থা উত্তরণের জন্য সার্বিক সহযোগিতা করার, চেষ্টা করতে পারতো। কিন্তু সেটা না করে অধিকাংশ ফ্যামিলি আছে যারা তাদেরকে তিরস্কার করে থাকে। কোন চাকরি পাবি না, তোর তরে কিছু হবে না।

তুই পড়ালেখা কিছুই করিস না। ঠিক এজন্য তো আজকে তোর এই অবস্থা। এ ধরনের বিভ্রান্ত মুলক, তিরস্কার মূলক মন্তব্য পিতা-মাতা থেকে আমরা অধিকাংশ শুনে থাকি। এ ধরনের পরিস্থিতি যখন ঠিক তখন আমরা আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করি, সমাজে থাকা অন্য সকল তরুণ প্রজন্ম যারা পড়াশোনা করছে। একবছর বা দুই বছর পর তারা যখন বেকারত্বের তালিকায় অবস্থান নেবে তাদের একটা মনোভাব তৈরি হবে যে, এতদিন তো দেখলাম মা-বাবা ভাইয়েরা ঘুর ঘুর করছে সমাজে। বিভিন্ন ভাবে তারা দিনাতিপাত করছে। চাকরি পাচ্ছে না, হতাশাগ্রস্ত। আমরাও চাকরি পাব না তাদের সাথে আড্ডা দিই এবং ভবিষ্যতে আরো বেশি বেকারত্ব দিন দিন বাড়ছে। তাদের অনুসরণ করতে করতে এখন পরবর্তী প্রজন্ম পর্যন্ত বেকারত্বকে ব্বচে নিচ্ছে। না তারা কোনভাবে স্ব-উদ্যোগী হচ্ছে আর না কোন দিক থেকে তারা স্বয়ংসম্পূর্ণ একজন সুনাগরিক হয়ে গড়ে উঠছে। যার কারণে বেকারত্ব দিন দিন বেড়েই চলছে।

আমি আরেকটু যোগ করব এর সাথে, যেখানে অনেকেই সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যে দিনাতিপাত করে। তার সাথে চলছে ডিজিটালাইজেশন। প্রবলেমগুলো ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক অনেকগুলো সমস্যা অনেকগুলো সাইট আমাদের চোখের সামনে ভাসে। যেগুলো আমাদের প্রজন্মগুলোর বেকারত্বের সুযোগটা তারা অবৈধভাবে কাজে লাগায়। যার কারণে তারা সে দিকেই মনোনিবেশ করে। সেদিকে আত্ম তৃপ্তি পায়, এ কারণে তারা স্ব উদ্যোগী হওয়ার একটা সুযোগ থাকে না এবং কি কার্য্য সম্পন্ন করার দক্ষতা অর্জনের জন্য কোথাও কিছু করা সে সুযোগটা হাতছাড়া করে ফেলছে। সামাজিকভাবে বেঁচে থাকা এসব অসামাজিক কার্যকলাপ দিন দিন আরও বেশি প্রকোপ আকার ধারণ করছে। সমাজ ভঙ্গুর হয়ে যাবে। যেখানে শুধু বেকারত্ব নয় নানাবিধ অন্য সকল সমস্যাগুলো আরো জটিল আকার ধারণ করব। যার ফলে বেকার থাকা অসংখ্য জনগোষ্ঠী এই সুযোগটাকে অন্যায় এবং খারাপ কাজ আরো বেশি করতে শুরু করবে।

সমাজে বিশৃঙ্খলা দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকবে।

তাহলে এবার জেনে নিই কিভাবে অবক্ষয় রোধ করে সুষ্ঠু সামাজিক ব্যবস্থা পুনঃ স্থাপন করা যায়! এজন্য আমাদের প্রত্যেককে যার যার অবস্থান থেকে সচেতনভাবেই কয়েকটা বিষয় সমাধান করতে পারলেই আমরা বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাব তার সাথে সামাজিক অবক্ষয় গুলো দূর করতে পারব। তাই আমি একটা বিষয় আহবান করব সবার প্রতি আমাদের মাঝে যে দারিদ্রতার কষাঘাত এখনো রয়েছে, সেটাকে দূর করার জন্য আসুন আমরা প্রত্যেকে প্রয়োজনে ক্ষেত-খামারে নিজেকে জড়িয়ে ফেলি। বীজ বপন করে গাছ লাগাই। ধান রোপণ করি। নার্সারি করি। হাস মোরগ লালন-পালন ও মাছ চাষ করি। আমরা রিকশা চালাতেও লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

আমরা দোকান করতে পারি। চা দোকান করতে পারি মুদি দোকান করতে পারি। ফার্মেসি খুলতে পারি আমরা আরো নানাবিধ যে সকল ক্ষুদ্র ব্যবসা রয়েছে যেগুলো আমাদের সাধ্যের মধ্যে আমরা উদ্যোক্তা হয়ে স্বল্প পুঁজি দিয়ে যে কাজগুলো সহজে করতে পারব, সবার প্রতি আকুল আবেদন-আমরা সেই উদ্যোগটা গ্রহণ করি। আমাদের সমাজে যে সকল বেকার লোকের কারণে সমাজের অবক্ষয় হচ্ছে তাদেরকে আমরা আহবান করছি,কর্মসংস্থান নিজে নিজেই তৈরি করুন। আপনার সাথে আরো দশ জনকে কাজে লাগিয়ে সবাই মিলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজে দারিদ্রতা দূর করুন। দেখবেন সামাজিক অবক্ষয় অনেকাংশে কমে যাবে। সমাজের যে সকল মাদকাসক্ত তরুণ প্রজন্ম রয়েছে তাদের ব্যাপারে সমাজপতিরা, পরিবার, ব্যক্তি উদ্যোগে আপনারা সামাজিক বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সহযোগিতা নিয়ে তাদেরকে শুধরানোর সুযোগ করে দিন।

তাদেরকে ডেকে নিয়ে তাদের সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধের জন্য তাদেরকে সঠিক কর্মপন্থা দেখিয়ে দিন। তাদেরকে কোন না কোন কাজে লাগিয়ে দিন। দেখবেন তাদের এই সকল অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে তারা ফিরে আসবে। তাহলে সামাজিক অবক্ষয় আরো একটি অংশ কমে আসবে। পারিবারিকভাবে সকল নিয়ম-নীতি, সুষ্ঠু সামাজিকীকরনের জন্য ও সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য পরিবার তার সকল সদস্যদের কে নিয়ে মাসিক মিটিং এর মাধ্যমেই তারা একটি পরিবারে সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য সমাজে তারা কিছু নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে নতুন নতুন কার্য সম্পন্ন করার জন্য চিন্তা চেতনা শেয়ারিং করে তাহলে সামাজিক অবক্ষয়ের কিছুটা হলেও রোধ করা সম্ভব। যারা বড়দের অনুকরণ করছ, তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে তোমাকে আল্লাহ অবশ্যই ভালো-মন্দ দুইটা জিনিস বুঝার শক্তি দিয়েছেন। সুতরাং বুদ্ধি বিবেককে কাজে লাগিয়ে খারাপ পথে যাবে না। বুদ্ধি বিবেক টা ভালো কাজে লাগাও। দেখবে তুমি সফল হবে, তুমি অন্যের অধিন হতে হবেনা। চাকরির জন্য তুমি সমাজে অবহেলিত হবে না। তুমি বরং সমাজের আগামীর নেতৃত্ব দিবে যদি তোমার জ্ঞানকে তুমি ভালো কাজে লাগাতে পারো।

এছাড়া যারা ইয়ং জেনারেশন আছো, তোমাদের বড় ছোট যারা আছে দুই দিক থেকে তোমরা ব্যালেন্স করে চলতে হবে। তোমাদের বড় যারা আছে তাদের মধ্যে যারা অসামাজিক কাজে লিপ্ত তাদেরকে কখনোই অনুসরণ করবে না। তাদের কখনো সংঘ নিবেনা। ছোট যারা আছে তাদেরকে কখনোই খারাপ কাজের সাথে যখন তারা জড়িত হতে দেখবে অবস্থা দেখে সেখান থেকে ফিরিয়ে আনবে। নতুবা তোমার আগামীদিনের সন্তান-সন্ততি যখন হবে তারাও একই পথের পথিক হবে।

ফেসবুক আমাদের জীবনে কতটা পরিবর্তন এনেছে জেনে নিন|

এভাবেই সামাজিক অবক্ষয় রোধে যারা ইয়ং জেনারেশন আছো তোমরা অবশ্যই অন্যতম ভূমিকা রাখতে হবে সমাজে। ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে, ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে স্যাটেলাইট ভিত্তিক সকল কর্মকান্ড হয়ে থাকে। সেখানে তারা যদি তাদের স্যাটেলাইটগুলোতে যে সকল কর্মসূচী দেখানো হয় সেগুলো যদি সামাজিক হয়, অসামাজিক না হয় এবং কি সেগুলো যদি শিক্ষণীয় হয় সে বিষয়গুলো তোমরা লক্ষ্য করবে। এক্ষেত্রে যারা স্যাটেলাইটগুলো পরিচালনা করে থাকেন যারা এই সমস্ত সাইটগুলো কন্ট্রোল করেন তাদের কাছে আমার আহবান থাকবে, আপনারা খারাপ সাইট গুলো বন্ধ করুন। আপনাদের সাইটে ভালো কিছু যোগ করুন। দেখুন সামাজিক পরিবর্তন এসেগেছে। আপনার পরিবারের পরিবর্তন আসবে। আপনি যদি এটা কন্টিনিউ করতে থাকেন খারাপ সাইট গুলো আপনার সাইটে তাহলে আপনার সন্তান সন্ততিও আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এভাবে খারাপ কাজের দিকে ধাবিত হবে।

আপনার পরিবার দিন দিন ধ্বংস হয়ে যাবে সামাজিক অবক্ষয়ের যাঁতাকলে পড়ে।

ভৌগোলিকভাবে যেসকল সমাজ বা এলাকা পাড়াগ্রাম মহল্লা এখনো পর্যন্ত সভ্যতার পরিপূর্ণতা পায়নি, এক্ষেত্রে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এই সকল সমাজ, বসবাস স্থানগুলোকে মানুষদেরকে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায় এনে তাদেরকে তাদের অসম্পূর্ণতা গুলো দূর করানোর জন্য সার্বিক ব্যবস্থা নিবেন বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশা করছি। এজন্য তরুণ প্রজন্ম ও যারা সমাজপতি রয়েছেন তাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আবার যে কথাটা বলেছিলাম,আমাদের বুদ্ধি-বিবেক সব কিছুর ভালো-মন্দ দুইটা দিক রয়েছে আমাদেরকে পরিচালিত করার। আমাদের সে সুযোগ দেওয়া হয়েছে সুতরাং ধর্মীয় জ্ঞান যদি আমরা জারি করতে পারি নিজেদের মাঝে, এর জন্য পরিবার এবং সমাজ দুইটা ব্যবস্থাপনায় আমাদের এই ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার সুযোগ রয়েছে।

সামাজিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজপতিরা যদি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন যে, প্রত্যেকটা মানুষই সমাজে বসবাস করতে হলে তাদেরকে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাহলে এই অনুভূতিটা আমাদের ঠিকই আসবে। পারিবারিকভাবে যদি এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা এবং মৌলিক ভূমিকা রাখা হয়, এখনকার পরিবারগুলোকে দেখা যায় তারা ধর্মীয় মূল্যবোধ শিক্ষার বাহিরে তারা সবচেয়ে বেশি সাধারণ যে সকল শিক্ষা রয়েছে সেগুলোর প্রতি খুব বেশি ঝুঁকে যায়। আমি নিষেধ করছি না কিন্তু অতিরিক্ত ঝুঁকে যাওয়ার কারণে তাদের ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা দরকার সেটা পর্যন্ত বুমেরাং হয়ে যায়। যার কারণে আমাদের সন্তানরা এই সকল অসামাজিক কার্যকলাপকে তারা পজিটিভ মনে করে। তাই আসুন সমাজের সকল পর্যায়ের লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজে অব্যাহত অবক্ষয় গুলো রোধ করে, আমাদের সমাজ, পরিবার, ব্যক্তি, আমি, আমার সন্তান, আমার ভাই, বোন, আত্মীয়-স্বজনকে শুদ্ধ করে গড়ে তুলি।

লিখেছেনঃ
আজগর হোসাইন আতিক
পরীক্ষক,বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড,ঢাকা

কোন মন্তব্য নেই

ধন্যবাদ আপনাকে কমেন্ট করার জন্য শিগ্রই আপনার কমেন্ট এর উত্তর জানিয়ে দেওয়া হবে।